Home / Uncategorized / ডার্ক ওয়েব আসলে কি এর সম্পর্কে জানুন এবং ডার্ক ওয়েব থেকে সতর্ক ও দূরে থাকুন

, 11 October, 2017 →( 8 months ago )

Posted Under: Uncategorized, 258 Views

TipsRain.Com

তথ্যপ্রযুক্তি উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে প্রসার পেয়েছে ইন্টারনেট। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষতা বাড়ছে সার্চ ইঞ্জিনগুলোর। তথ্যের মহাসমুদ্র থেকে তথ্য খুঁজে বের করতে গুগলের নাম স্বীকার করতেই হয়।

এর দক্ষতা এত বেশি যে, বর্তমানে এটি একটি বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৬৫.১ শতাংশ মানুষ গুগল ব্যবহার করে। ইয়াহু ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০.৯ শতাংশ, এমএসএন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮.৪ শতাংশ, আসক ব্যবহারী ৩.৯ শতাংশ এবং অনান্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১.৭ শতাংশ। সার্চ দেয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুগল কোটি কোটি ডাটা আমাদের সামনে হাজির করে।

কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, ইন্টারনেটের মোট ডাটার কতটুকু আমাদের সামনে হাজির করা হচ্ছে? শুনলে আশ্চর্য হবেন, ইন্টারনেটের মোট তথ্যের মাত্র ১০ শতাংশ ডাটা আমাদের সামনে গুগল হাজির করতে পারে। বাকি ৯০ শতাংশ তথ্যই থাকে আমাদের নাগালের বাইরে।

অজানা রয়ে যায় পুরো ইন্টারনেট দুনিয়ার ৯০ ভাগ তথ্য। এ ৯০ শতাংশ তথ্য ভাণ্ডারকে ডিপওয়েব বলা হয়। ডিপওয়েবের একটি অংশ হল ডার্কওয়েব। ডার্কওয়েব হল এমন একটি অংশ, যেখানে প্রচলিত নিয়মে আপনি একসেস করতে পারবেন না। সচরাচর ব্যবহৃত ব্রাউজার বা সার্চ ইঞ্জিন এগুলোকে খুঁজেই পায় না। উল্লেখ্য, ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিনগুলো সাধারণত ভার্চুয়াল রোবটের সাহায্যে ‘এইচটিএমএল’ ট্যাগ দেখে সাইটগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখে।

এক্ষেত্রে যদি এডমিন চান যে, তার সাইটটি কেউ খুঁজে পাবে না, তবে এডমিন রোবট এক্সক্লুশন প্রোটোকল ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিন থেকে দূরে রাখে। কিছু ডাইনামিক সাইট রয়েছে, যেগুলো একসেস করতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যা পূরণ করা ব্রাউজার বা সার্চ ইঞ্জিনের পক্ষে অসম্ভব। আবার কিছু সাইট রয়েছে, যেগুলোয় অন্য কোনো সাইটের লিংক নেই, এরা স্বতন্ত্র, বিছিন্ন- এ ধরনের সাইট একসেস করা অত্যন্ত দুরূহ। আর এসব ওয়েবসাইট ক্রোম, ফায়ারফক্স, অপেরা, ইউসি, এক্সপ্লোরার বা অন্য সাধারণ ব্রাউজার দ্বারা একসেসের প্রশ্নই আসে না।

সার্চ ইঞ্জিনগুলো টেক্সট ফরমেটে সার্চ করে। ফলে সার্চ ইঞ্জিনগুলো অন্য কোনো ফরমেটেড ডাটা বা তথ্য খুঁজে পায় না। ডার্ক ওয়েবের সাইটগুলোয় প্রচলিত নিয়মের বাইরে কিছু বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিকভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে। বিশেষ কোনো নিয়ম বা ফরমেট ফলো না করায় তারা আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। এদের ডোমেইন বা ওয়েব অ্যাড্রেস এতই উদ্ভট থাকে, প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, কোনো বাচ্চা ছেলে মনের খেয়ালে কিছু লিখে রেখেছে। এ সাইটগুলোর ঠিকানা মনে রাখাও দুষ্কর। ডার্ক সাইটগুলো একসেস করতে হলে প্রোগ্রামিং, নেটওয়ার্কিং, প্রক্সি জ্ঞান থাকা বাধ্যতামুলক। আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যেমন এরা টপ লেভেল ডোমেইন ব্যবহার না করে অন্য বিশেষ কিছু নাম ব্যবহার করে। ডটকম, ডট নেট, ডট ওআরজি, ডট বিজ, ডট গভ. ইত্যাদি ব্যবহার করে না। তারা গতানুগতিক ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন না করে ভিন্নভাবে অন্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে রেজিস্ট্রেশন করে। বিটনেট, অনিয়ন, ফ্রিনেট ইত্যাদি ডোমেইন ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনিয়ন নেটওয়ার্ক। এটি তৈরি হয়েছিল মূলত মার্কিন নেভির জন্য। কিন্তু এটি আজ এতই বিস্তৃত যে, এসব সাইট কে বা কারা চালায়, সেটা জানা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের সাইটগুলো হ্যাকারদের জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক।

বিশেষ ব্রাউজার ‘টর’ এর সাহায্যে এই সাইটগুলো একসেস করা যায়। প্রচলিত জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এ জগতে এমন কিছু পাওয়া যায়, যা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না। উইকিলিকস যেসব তথ্য ফাঁস করে আলোচনায় এসেছে, সেসব তথ্য আরও কয়েক বছর আগে থেকেই ডার্ক ওয়েবে ছিল। এমন অনেক তথ্যই এখানে ভাসে, যা কোথাও পাওয়া যাবে না। শিশু বিনোদন, বড়দের বিনোদনসহ বিকৃত রুচির বিনোদনের সব উপাদান এখানে পাওয়া যায়।

এমন সব ইমেজ, ভিডিও পাওয়া যায়, যা আমাদের ইন্টারনেটে নেই। মারিজোয়ানা, কোকেন, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য এগুলোর মাধ্যমে হোম ডেলিভারি দেয়া হয়। মাদকাসক্তরাই ডার্ক ওয়েবের মূল ব্যবহারকারী। এমন কিছু সাইট রয়েছে, যেখানে কট্টরপন্থীরা শিক্ষা দিচ্ছে- কিভাবে গোলাবারুদ তৈরি করতে হয়, কিভাবে অস্ত্র চালাতে হয়? উন্নতমানের অস্ত্র একে-৪৭, রকেট লাঞ্চার, মর্টার কোথায় কিনতে পাওয়া যায়? ডার্ক ওয়েবে মেইল সার্ভিস, চ্যাট সার্ভিস রয়েছে, যেখানে আপনি নিজেকে গোপন রেখে যোগাযোগ করতে পারবেন। অবৈধ সঙ্গীত, সিনেমা, গেম ডাউনলোড, কম মূল্যে মাদক অর্ডার ছাড়াও খুনি ও হ্যাকার ভাড়া করা থেকে শুরু করে রক্তমাংসের মানুষও হোম ডেলিভারি দেয়া হয়।

ডার্ক ওয়েবের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট হল ‘সিল্ক রোড’। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বসের হিসাবে ২০১৬ সালে এখানে ২২ মিলিয়ন ডলার বেচাকেনা হয়েছিল। মাইক্রোসফট বা অ্যাপলের পণ্য এখানে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রি হয়। মাদকদ্রব্য, রাসায়নিক দ্রব্য, সালফিউরিক এসিড, তরল পারদ, চোরাই ক্রেডিট কার্ড, চেক, নকল বিল, কয়েন, চোরাই স্বর্ণ, জুয়েলারি ইত্যাদির জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিভাগ রয়েছে। বিশ্বের কোনো দেশের মুদ্রা এখানে ব্যবহার হয় না। এখানে এক ধরনের বিশেষ মুদ্রা ব্যবহার হয়, যার নাম বিটকয়েন। এক বিটকয়েন হল, নয় মার্কিন ডলার।

যে হ্যকারদের কথা আমরা শুনে থাকি, তা ডার্ক ওয়েবের লিক হওয়া মাত্র ১ শতাংশ। ডার্ক ওয়েবের হ্যাকাররা অনেক ভয়ঙ্কর। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে তাদের জুড়ি মেলা ভার। তাদের কবলে পড়লে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। এখানে ভিজিটের পূর্বে তাই চিন্তাভাবনা করা দরকার। বস্তুত বিশেষ সফটওয়্যার ও নির্দিষ্ট ব্রাউজারের সাহায্যে প্রবেশ করায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাউকে শনাক্ত করতে পারে না। এ বিশেষ ব্রাউজারটির নাম ‘টর’। এ ব্রাউজারের সাহায্যে নিজেকে সম্পূর্ণ গোপন রেখে ইন্টারনেট একসেস করা যায়। ‘টর’ ব্রাউজারে যখন কোনো ব্যবহারকারী নিজেকে ‘হাইড’ করে, তখন পৃথিবীর বড় বড় হ্যাকাররাও সেই ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারে না।

ডার্ক ওয়েবের অন্যতম ওয়েবসাইট ‘সিল্ক রোডে’র উদ্ভাবক রস উলব্রিচেট এফবিআই কর্তৃক গ্রেফতার হন। ‘সিল্করোড’ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে- এফবিআই এমন দাবি করলেও মূলত এটি এখনও চলছে দেদারসে। ‘টর’ টিম এফবিআইয়ের আইপিগুলো ব্লক করে ‘সিল্করোড’ লিংক বন্ধ করেছে শুধু সেসব আইপিগুলোর, যেগুলোর সাহায্যে এফবিআই একসেস করতে পারে।

About Author (160)
Mehadi Hasan

Administrator

নিজেকে নিয়ে বলার মতো তেমন কিছুই নাই তবে প্রযুক্তি কে আমার ভালো লাগে তাই নিজেকে সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়া।

Leave a Reply